অন্তর্বর্তী সরকার নতুন অধ্যাদেশ জারি করে দেশের সব বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) সরাসরি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)’র নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। এই প্রক্রিয়ায় ১৯৯৬ সালের ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল আইন’ বাতিল করা হয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ সোমবার এই অধ্যাদেশটি গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত সব বেসরকারি ইপিজেড এখন থেকে ‘বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল’ হিসেবে গণ্য হবে। তবে অধ্যাদেশে উল্লেখ আছে, আগের আইন অনুসারে ইতিমধ্যেই সম্পাদিত সব কার্যাবলি ও প্রাপ্ত সুবিধা নতুন অধ্যাদেশের আওতায় অক্ষুণ্ণ থাকবে।
অধ্যাদেশের ২(২-ক) ধারায় বলা হয়েছে, এই সব অঞ্চল ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০’ এর আওতায় পরিচালিত হবে এবং তাদের তত্ত্বাবধান ও প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে বেজার অধীনে থাকবে।
এছাড়া, পূর্বের আইনের অধীনে প্রাপ্ত লাইসেন্সগুলো বৈধ থাকছে, তাই উদ্যোক্তাদের নতুন লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে না। বিদ্যমান বন্ডেড সুবিধা এবং অন্যান্য রেয়াতি সুবিধাও আগের মতো বজায় থাকবে। তবে বেজা এই অঞ্চলের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে।
জনবল ও প্রশাসনিক দিকেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বে গঠিত ‘গভর্নর বোর্ড’ ও ‘নির্বাহী সেল’ বিলুপ্ত করা হয়েছে। সেলে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সরাসরি বেজা-তে বদলি করা হবে এবং তাদের চাকরির পূর্ব শর্তাবলি অক্ষুণ্ণ থাকবে। এছাড়া, পূর্বে বোর্ড বা সেলের নামে যেকোনো চলমান মামলা এখন বেজা’র নামে চলবে।
১৯৯৬ সালে দেশে বিনিয়োগ ও রপ্তানি বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য বেসরকারি ইপিজেড স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই আইনের প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা বিবেচনা করে এটি বাতিল করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। অধ্যাদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
মন্তব্য করুন