ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ১৩ মাস বয়সী এক শিশুকে ২ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা ও স্বজনদের বিরুদ্ধে। ঢাকার দোহার থেকে শিশুটিকে উদ্ধারের পর তার দাদা-দাদিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল বুধবার ভোররাতে ঢাকার দোহার উপজেলার চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচণ্ডী এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শিশুটির দাদা উজ্জল মিয়া (৫০), দাদি আয়শা খাতুন (৪৫), ফুফু শরিফা খাতুন (৩৫) এবং শিশুটিকে কিনে নেওয়া ঢাকার দোহার উপজেলার হরিচণ্ডী এলাকার আবেদ মোল্লা (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী শিখা (৩৫)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজহাটি (সুতি ভরট) এলাকার মো. নাঈম মিয়ার (২৫) সঙ্গে রোজিনা বেগমের (২১) বিয়ে হয়। তাঁদের মোজাহিদ নামের ১৩ মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় পাঁচ মাস আগে রোজিনাকে মারধর করে তাঁর বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে শিশুটিকে তাঁর শ্বশুরবাড়িতেই রেখে দেওয়া হয়। পরে রোজিনা জীবনজীবিকার তাগিদে গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ নেন।
রোজিনা পরে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে তাঁর স্বামী ও স্বজনেরা শিশুটিকে অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তির কাছে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। পরদিন রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে সন্তানের বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁকে গালাগাল করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, গত সোমবার শিশুটির মা ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির সূত্র ধরে তদন্তে শিশুটির অবস্থান ঢাকার দোহারের হরিচণ্ডী এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন বলেন, “যে দম্পতির কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁদের কোনো সন্তান নেই। তাঁরা শিশুটিকে লালন-পালনের উদ্দেশ্যেই নিয়েছিলেন, তবে আইনগত প্রক্রিয়াটি সঠিক ছিল না।”
ওসি আরও জানান, শিশুটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে নিরাপদ রয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার পাঁচজনকে গতকাল বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন