কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে অবাধে বিচরণ করছে গবাদিপশুর পাল। এতে করে শহরের স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চালকরা। বিশেষ করে শহরের ফলের আড়ত ও প্রধান সড়কগুলোতে গরুর উপদ্রব এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গরুর পাল মাঝেমধ্যেই রাস্তা আটকে রাখায় শহরে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এমনকি হুটহাট গরু দোকানে ঢুকে পড়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
ভুক্তভোগীরা জানান, গবাদিপশু মালিকদের দায়িত্বহীনতার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মালিকরা তাদের পশুগুলো নির্দিষ্ট স্থানে বা খোলা মাঠে না রেখে শহরের ভেতরে ছেড়ে দিচ্ছেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান রাজন। একরামপুর স্টেশন রোডে তাঁর প্রতিষ্ঠান। এই ফল ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অবাধে গরু বিচরণ করছে সারা শহরে। বিশেষ করে আমাদের ফল পট্টিতে আমরা অতিষ্ঠ। গরুগুলো হুটহাট দোকানে ঢুকে পড়ছে। ভ্যানে রাখা মালামাল নষ্ট করছে—কখনো কলা খেয়ে ফেলছে, কখনো তরমুজে মুখ দিচ্ছে। আমরা ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”
ভুক্তভোগী আরেক ব্যবসায়ী জুনুন বলেন, প্রতিদিন ধাওয়া করে এদের সরানো যায় না। একদিক দিয়ে তাড়িয়ে দিলে অন্যদিক দিয়ে ফিরে আসে। অনেক সময় গরুর পালের কারণে রাস্তা পুরোপুরি ব্লক হয়ে যায়। এতে শহরের শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে।
শহরের অটোরিকশা চালক আজিজুল ইসলাম বলেন, রাস্তার মাঝখানে গরুর পাল দাঁড়িয়ে থাকলে হর্ন দিলেও সরে না। এতে যাত্রী নিয়ে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না, আবার হুটহাট গরু দৌড় দিলে রিকশা উল্টে যাওয়ার ভয় থাকে। ব্রেক চাপতে গিয়ে অনেক সময় পেছনে থাকা অন্য গাড়ির সাথে ধাক্কা লাগে। আমাদের মতো চালকদের জন্য এখন রাস্তায় গাড়ি চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।”
শহরের বত্রিশ এলাকার বাসিন্দা পলাশ ধর। তিনি বলেন, রাস্তা দিয়ে হাঁটা এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। হঠাৎ করে গরুর পাল এসে রাস্তা আটকে দাঁড়াচ্ছে। ছোট ছোট বাচ্চারা ভয় পায়, আর অটোরিকশা বা বাইক নিয়ে যাওয়ার সময় ধাক্কা লাগার ঝুঁকি থাকছে সবসময়। শুধু তাই নয়, যেখানে-সেখানে গোবর ফেলে রাস্তা নোংরা হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত এখনই ব্যবস্থা নেওয়া।
ব্যবসায়ীরা জানান, যারা এই গবাদিপশুগুলো লালন-পালন করছেন, তারা যেন এগুলোকে শহরের ভেতরে না রেখে খোলা মাঠে বা নির্দিষ্ট স্থানে রাখার ব্যবস্থা করেন। শহরের পরিবেশ ও ব্যবসায়িক শৃঙ্খলা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তারা স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কিশোরগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) ও পৌর প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, ”গরু যেন রাস্তাঘাটে না ছাড়া হয়, সেজন্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে শহরে মাইকিং করা হবে। এরপরও যদি মালিকেরা সচেতন না হন, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মন্তব্য করুন