কিশোরগঞ্জে এক রাতের আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার ১৩ উপজেলার মধ্যে ৯টি উপজেলায় ফসলের মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে হাওরাঞ্চলে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলায় ৩ হাজার ৮৬৪ হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাওরের কৃষক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত ৯টার দিকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় তীব্র শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাওরবেষ্টিত চার উপজেলা— মিঠামইন, ইটনা, নিকলী ও অষ্টগ্রাম। এর মধ্যে মিঠামইন উপজেলায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া ইটনায় ৯৮৬ হেক্টর, অষ্টগ্রামে ১৪০ হেক্টর এবং নিকলীতে ১০০ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হাওর ছাড়াও হোসেনপুর, পাকুন্দিয়া, কুলিয়ারচর, ভৈরব ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কিছু এলাকাতেও শিলাবৃষ্টির প্রভাবে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। পাকুন্দিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২০ হেক্টর জমির ধান। ধানের পাশাপাশি কটিয়াদী উপজেলার হালুয়াপাড়া গ্রামের কৃষক হানিফের মতো অনেক সবজি ও ভুট্টা চাষিও বড় অংকের লোকসানের মুখে পড়েছেন।
বর্তমানে বেশিরভাগ জমিতে বোরো ধান ‘থোড়’ ও ‘ফুল’ আসার পর্যায়ে রয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, যেসব এলাকায় ধান আশি শতাংশ বা তার বেশি পেকে গেছে, সেখানে বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে দ্রুত ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির জরিপ কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। চূড়ান্ত জরিপ শেষে ক্ষতির সঠিক আর্থিক পরিমাণ জানা যাবে। তবে আকস্মিক এই দুর্যোগে হাওরের কৃষকদের চোখেমুখে এখন চরম দুশ্চিন্তার ছাপ।
ইটনা উপজেলার মৃগা ইউনিয়নের মৃগা গ্রামের কৃষক শহীদুল ইসলাম তার আহাজারি প্রকাশ করে বলেন, ”রাইতের শিলাবৃষ্টিতে আমগো সব শেষ অইয়া গেছে। চোখের সামনে সোনার ধান মাডিতে মিশ্যা গেছে।”
মিঠামইন উপজেলার ঢাকী গ্রামের কৃষক আব্দুল হাশেম বলেন, এক রাইতের শিলাবৃষ্টিতে সব স্বপ্ন ভাইঙ্গা গেল। ধানের শীষগুলা ভাইঙ্গা পইড়া আছে, অহন জমি থাইকা খেড় (খড়) ছাড়া ঘরে তোলার মতো আর কিছু বাকি নাই।”
কটিয়াদী উপজেলার হালুয়াপাড়া গ্রামের হানিফ বলেন, ১০৫ শতাংশ জমিতে ভুট্টা খেত করছিলাম। গতকালকের শিলাবৃষ্টিতে অনেক ভুট্টা গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হইছে। প্রায় ১ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হইছে আমার।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের উপপরিচালক ড. মোঃ সাদিকুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী জেলায় মোট ৩ হাজার ৮৬৪ হেক্টর জমির বোরো ধান আক্রান্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমাণ জানতে আরও দুই-তিন দিন সময় লাগবে। মাঠ পর্যায়ে আমাদের কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরির কাজ করছেন।
মন্তব্য করুন