নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে বড় আকারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় আজ সোমবার থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে খানা বা পরিবারের তথ্য সংগ্রহের মূল কার্যক্রম। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই তথ্য সংগ্রহ করছেন। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য ডেটাবেইসে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, নারীর সর্বাঙ্গীন মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। সেই লক্ষ্যেই পরিবারের নারীপ্রধানের নামে এই কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত রয়েছেন। কর্মীরা বিশেষায়িত ট্যাবলেট ও সুরক্ষিত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইসে পাঠাচ্ছেন।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ করা প্রক্সি মিন্স টেস্ট বা পিএমটি পদ্ধতিতে সব পরিবারকে মোট পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হবে। এগুলো হলো অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত। দেশের সব নারী পরিবারপ্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তবে পিএমটি স্কোর ৮৬০ বা তার কম অর্জনকারী নারী পরিবারপ্রধানেরা ভাতার জন্য বিবেচিত হবেন। অর্থাৎ কেবল প্রথম তিনটি শ্রেণির নারীরা ভাতা সুবিধা পাবেন। চলতি অর্থবছরে নতুন ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ভাতা দেওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। পরবর্তী তিন অর্থবছরের মধ্যে দেশের সব যোগ্য নারী পরিবারপ্রধানকে এর আওতায় নিয়ে আসা হবে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে ফ্যামিলি কার্ডটি হবে বেশ আধুনিক। এতে ডুয়েল চিপ, কিউআর কোড এবং নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন সুবিধা থাকবে। জাতীয় পেমেন্ট ব্যবস্থা ‘টাকাপে’—এর সঙ্গে কার্ডটি যুক্ত থাকায় সুবিধাভোগীরা এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেলস এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে সহজেই টাকা তুলতে পারবেন।
চলতি অর্থবছরে এ কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে বিতরণ করা হবে। এর আগে সফলভাবে কর্মসূচির পাইলটিং সম্পন্ন করা হয়, যেখানে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য পরিবারকে ভাতা প্রদান করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন