কিশোরগঞ্জে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও হামসহ নানা সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে জেলা ও উপজেলার প্রধান হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নতুন নতুন আক্রান্তরা। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলাজুড়ে শুধু ডেঙ্গুতেই আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪ জন এবং ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১০৭ জন রোগী। এছাড়া একই সময়ে সন্দেহভাজন হামের লক্ষণ নিয়ে আরও ১৬ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরু থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় মোট ১৮১১ জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৬৭৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ গেছে ১ জনের। অন্যদিকে চলতি বছরে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪,৯৮৩ জনে। এর মধ্যে ২৪,৮০৩ জন সুস্থ হয়েছেন। মারা গেছেন ১ জন।
এ ছাড়া চলতি বছর নিশ্চিত হওয়া ২১৫ জন হাম রোগীর মধ্যে ১ জন এবং সন্দেহভাজন ২,৮৮৯ জন হামের রোগীর মধ্যে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সাপে কাটা ৭৪ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
বর্তমানে জেলার সরকারি-বেসরকারি ১৬টি হাসপাতালে সর্বমোট ৩৮০ জন সংক্রামক ব্যাধির রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৩৩ জন, সন্দেহভাজন হামের রোগী ৬৭ জন এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১৮০ জন।
জানা গেছে, ডেঙ্গু রোগীর সবচেয়ে বেশি চাপ সামলাতে হচ্ছে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে। সেখানে বর্তমানে ৩২ জন ডেঙ্গু, ২৬ জন হাম ও ১০ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ১৭ জন ডেঙ্গু ও ২৬ জন ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
উপজেলাগুলোর মধ্যে ভৈরবে প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ৩২ জন ডেঙ্গু ও ২৮ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি আছেন। বাজিতপুরে ৮ জন ডেঙ্গু ও ১৭ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি রয়েছেন।
বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ জন ডেঙ্গু, ২৬ জন হাম ও ৯ জন ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।
সরজমিনে শহীদ সৈয়দ নজরুল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে রোগীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা থাকলেও অনেকেই তা মানছেন না। কেউ কেউ গরমের অজুহাতে মশারি টাঙাচ্ছেন না। এতে অন্যদের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী তারা মিয়ার ভাই আউয়াল মিয়া জানান, হাসপাতালে নার্সদের খুঁজে পাওয়া যায় না। আর রাতে ডাক্তারদের কোনো খোঁজই থাকে না। টয়লেটে গেলে বমি আসে। এখানে অসুস্থ রোগীরা এসে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী খাদিজা বেগমের স্বামী সাত্তার বলেন, বিভিন্ন ওষুধ বাইরে থেকে কেনা লাগে। তবে স্যালাইনের কোনো সংকট পাই নাই। বাথরুমগুলো ব্যবহারের উপযোগী না। এগুলোর দিকে নজর দিলে রোগীরা স্বস্তি পায়।
সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, চিকিৎসা সেবায় কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডেঙ্গু পরীক্ষার এনএস১ কিট এবং প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও ওষুধ মজুত রয়েছে। হাসপাতালগুলো থেকে ভর্তি হওয়া রোগীদের সেবা প্রদানের পাশাপাশি আক্রান্ত এড়াতে বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, ফোটা পানি পান করা এবং শোয়ার সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন