কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চর-ঝাকালিয়া গ্রামের ইছামুদ্দিন সরকার বাড়ি মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এর আগে ইমামের বন্ধু সোহানকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
পরে তাঁকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
নিহত শামীম (২৫) ওই মসজিদের ইমাম ছিলেন। তিনি চর-ঝাকালিয়া গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় ফেকামারা আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিলেন। গুরুতর আহত যুবক সোহান (২৪) একই গ্রামের মৃত ছইদু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, শামীম ও সোহান দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দুজনই অবিবাহিত। সোহানের বাড়ি মসজিদসংলগ্ন হওয়ায় মাঝেমধ্যে তাঁরা ইমামের কক্ষে একসঙ্গে রাতযাপন করতেন। ঘটনার রাতে ওই কক্ষ থেকে চিৎকারের শব্দ পান স্থানীয়রা। পরে কক্ষের সামনে সোহানকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা।
স্থানীয়রা জানান, সোহানের গলা ও শরীরে ক্ষতচিহ্ন ছিল। ওই সময় স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছে সোহান দাবি করেন, শামীম আমাকে মারছে। তবে তখন শামীম বিষয়টি অস্বীকার করেন।
এদিকে খবর পেয়ে শামীমের বাবা ফরিদ মিয়া ওই কক্ষে গিয়ে ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
আহত সোহানের চাচি স্বপ্না বলেন, শব্দ শুনে গিয়ে আমরা সোহানকে রক্তাক্ত পাই। শামীম আঘাত করেছে বলে সে জানিয়েছে। তবে তাঁদের দুজনের মধ্যে আগে কখনোই কোনো মনোমালিন্য দেখি নাই।
অন্যদিকে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়। শামীমের বাবা ফরিদ মিয়া ও চাচা আবু তাহের বলেন, শামীম নম্র স্বভাবের ছেলে, কারও সঙ্গে কখনো ঝগড়া করেনি। সে নিজে থেকে আত্মহত্যা করতে পারে না। এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই।
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে সুরতহাল ও আলামত দেখে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সৈয়দ নজরুল মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসাধীন আহত সোহানের জবানবন্দি নেওয়া সম্ভব হলে ঘটনার মূল কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন