অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদে একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ ছিল, যার সদস্য তিনি ছিলেন না। সেখানে কী আলোচনা হতো বা কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো, সে বিষয়ে তাকে কিছু জানানো হতো না। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘ইউনূস সাহেবের নিকটজনদের নিয়েই সেই কিচেন কেবিনেট গঠিত ছিল। দেশ যখন এক অগ্নীগর্ভ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখনো তারা আমাকে কোনো আলোচনায় ডাকেনি বা পরামর্শ করার প্রয়োজন মনে করেনি। হয়তো তারা ধরে নিয়েছিল যে আমি তাদের সব সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হতে পারব না।’ যারা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তারা চিহ্নিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তার মূল লক্ষ্য ছিল পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠন করে মাঠে নামানো। তিনি দাবি করেন, প্রতিকূল পরিবেশ সত্ত্বেও তিনি পুলিশকে কাজে ফেরাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তবে পুলিশ বাহিনীর কাছে থাকা ৭.৬২ চাইনিজ রাইফেলের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘পুলিশের কাছে এই মারণাস্ত্র কীভাবে এল, তা তদন্ত করা প্রয়োজন ছিল। আমি ভিডিওতে দেখেছি, হেলমেট ও লুঙ্গি পরা কিছু ব্যক্তি এই অস্ত্র ব্যবহার করছে, যাদের চেহারা আমাদের দেশের মানুষের মতো নয়।’
তাকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি জানান, সে সময়কার কিছু মন্তব্যের কারণে হয়তো তাকে সরানো হয়েছিল। তিনি নিজেই পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সরকারপ্রধানের অনুরোধে আরও কয়েক দিন দায়িত্ব পালন করেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, পৃথিবীতে কোনো নির্বাচনই শতভাগ নিখুঁত হয় না। তবে এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ৭৭টি আসন পাওয়াকে তিনি একটি বড় ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া জ্বালানি খাতের চুক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে কিছু চাপ ছিল। বিশেষ করে শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের ৪ শতাংশ লভ্যাংশ নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের সম্মতিতে তা ১.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। দেশের পররাষ্ট্রনীতি আগে দিল্লি-কেন্দ্রিক ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত সরকারের পতনের পর প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এখনো সেখানেই আশ্রয় নিয়ে সব পরিচালনা করছেন।
মন্তব্য করুন