দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত ফিশন বা পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির সব প্রাথমিক কারিগরি ধাপ শেষ হয়ে চূড়ান্ত ধাপে উন্নীত হলো। আজ রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরুর ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার চূড়ান্ত পথ উন্মোচিত হলো।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পারমাণবিক বিজ্ঞানী ড. মো. জাহেদুল হাছান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় আনুষ্ঠানিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এখন ধীরে ধীরে প্রক্রিয়াটি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
কবে নাগাদ এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা এখনই সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। আগামী কয়েক দিন এভাবে নিয়ন্ত্রিত ফিশন বিক্রিয়া চলতে থাকবে। এরপর ধীরে ধীরে মূল বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে যাওয়া হবে। তবে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার আগে আরেক দফা চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হবে বলেও জানান তিনি।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মা নদীর তীরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় কোম্পানি রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এই প্রকল্প। কেন্দ্রে ১,২০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। রুশ ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তিতে নির্মিত কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট।
প্রকল্পটির মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর। এর আগে ২০১৩ সালে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ইতিমধ্যেই অন্তত চার ধাপে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির নির্মাণব্যয় ১২ দশমিক ১৯৬৫ বিলিয়ন ডলার ধরা হলেও পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ব্যয় ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা। এই মোট ব্যয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে রাশিয়া এবং বাকি অংশ অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার।
বিজ্ঞানীরা জানান, পারমাণবিক রিয়্যাক্টরের ভেতরে ফিশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরেনিয়াম পরমাণু ভেঙে প্রচণ্ড তাপশক্তি উৎপন্ন করা হয়। সেই তাপ দিয়ে পানিকে বাষ্পে পরিণত করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়। রূপপুরের প্রথম ইউনিটে এই ফিশন চালু হওয়ায় বিদ্যুৎ পাওয়ার শেষ ধাপে পৌঁছাল দেশ।
মন্তব্য করুন