কিশোরগঞ্জের প্রথিতযশা শরীরচর্চা শিক্ষিকা এবং জাতীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ গাইডার শামছুন্নাহার (৭৭) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি সাংবাদিক শামসুল আলম শাহীনের মাতা।
বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ শুক্রবার বাদ জুমা পাকুন্দিয়ার সিরামদী (ফকির পাড়া) জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।
মরহুমা শামছুন্নাহার ১৯৪৮ সালে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার স্বল্প মারিয়া গ্রামে। তার পিতা মরহুম আব্দুল মান্নান ছিলেন শোলাকিয়া এগ্রিকালচার ফার্মের সুপারিন্টেনডেন্ট।
শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৬৮ সালে তৎকালীন শ্যামসুন্দর আখড়ায় অবস্থিত কিশোরগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে শরীরচর্চা শিক্ষিকা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত সেখানে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তার হাত ধরেই ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, বৌচিসহ বিভিন্ন অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় কিশোরগঞ্জ জেলা জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
পরবর্তীতে তিনি বাজিতপুর রাজ্জাকুন্নেছা পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ে যোগ দেন। সেখানেও তার দক্ষতায় স্কুলটি ক্রীড়া ও গালর্স গাইড কার্যক্রমে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। ১৯৯০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে তিনি ‘জাতীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ গাইডার’ হিসেবে পদক গ্রহণ করেন।
দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভোগার পর এই নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষিকার প্রয়াণে কিশোরগঞ্জের ক্রীড়া ও শিক্ষা অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।