সরকার গঠনের আলোচনা চলার মধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার ঘোষণার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ছায়া মন্ত্রিসভা কী, এর ক্ষমতা ও কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

রাজনীতিতে ছায়া মন্ত্রিসভা বলতে সাধারণত বিরোধী দলের এমন একটি কাঠামোকে বোঝানো হয়, যেখানে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা থাকেন। তাঁরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন, নীতিনির্ধারণে সমালোচনা ও বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরেন।

সাম্প্রতিক সময়ে আইনজীবী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–সংশ্লিষ্ট নেতা মোহাম্মদ শিশির মনির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কথা জানান। একই ধরনের উদ্যোগের কথা জানান জাতীয় নাগরিক পার্টি–এর এক নেতা। এসব ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছায়া মন্ত্রিসভা মূলত সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি প্রচলিত রীতি, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশে। সেখানে বিরোধী দল সরকারকে নিয়মিত নজরদারির মধ্যে রাখার পাশাপাশি নিজেদের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার প্রস্তুতি নেয়। তবে বাংলাদেশে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল থাকলে ছায়া মন্ত্রিসভা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু সংসদের বাইরে থেকে ঘোষিত কোনো ছায়া মন্ত্রিসভার আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা থাকে না। ফলে এ ধরনের উদ্যোগ রাজনৈতিক বার্তা বা চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেই বেশি দেখা হয়।

বিশ্লেষকেরা আরও বলেন, দেশে কার্যকর গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতি নিশ্চিত করতে হলে সংসদকেন্দ্রিক বিরোধী রাজনীতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে ছায়া মন্ত্রিসভা একটি সহায়ক কাঠামো হতে পারে, তবে তা কার্যকর করতে প্রয়োজন রাজনৈতিক ঐকমত্য ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি।