কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের বড় একটি অংশ জামানত হারিয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ আনিসুজ্জামান খোকন তাদের জামানত হারিয়েছেন।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এসব আসনে মোট ৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৪ জন নির্ধারিত ভোটের ন্যূনতম এক–অষ্টমাংশ অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁদের জমা দেওয়া জামানতের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা পড়েছে। নির্বাচন আইন অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত ভোটের ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। কিশোরগঞ্জের প্রতিটি আসনে ভোটের হার, প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট এবং বিজয়ী–পরাজিতদের ব্যবধান বিশ্লেষণে উঠে এসেছে জামানত হারানোর এই চিত্র।

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৮ জন প্রার্থী। অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে সর্বমোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৩১৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৪৯.৪১ শতাংশ। এই হিসাবে প্রাপ্ত ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ হলো ৩৪ হাজার ২৮৯। সে কারণে জামানতের টাকা হারিয়েছেন ৫ জন।

তাঁরা হলেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) আলাল মিয়া। তিনি পেয়েছেন ৯৬০ ভোট। খেলাফত মজলিসের আহমদ আলী। তিনি পেয়েছেন ৬৮৪ ভোট। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির তারেক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম পেয়েছেন ২৪৭ ভোট। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মোঃ এনামুল হক পেয়েছেন ৯২৫ ভোট। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর মোঃ মাসুদ মিয়া পেয়েছেন ২৩৪ ভোট।

এ আসনে ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হেদায়াতুল্লাহ হাদী। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ১৩২ ভোট।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৮ জন প্রার্থী। আসনে সর্বমোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার ১১। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৫২.৫৮ শতাংশ। এই হিসাবে প্রাপ্ত ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ হলো ৩৫ হাজার ১। সে কারণে জামানতের টাকা হারিয়েছেন ৬ জন।

তাঁরা হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী নূর উদ্দীন আহমেদ পেয়েছেন ১ হাজার ৩১৩ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ আনিসুজ্জামান খোকন পেয়েছেন ৩৬৩ ভোট। জাতীয় পার্টির মোঃ আফজাল হোসেন ভূইয়া পেয়েছেন ২ হাজার ১১৩ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ আবুল বাসার রেজওয়ান পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৬৬ ভোট। বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের মোঃ বিল্লাল হোসেন পেয়েছেন ২২২ ভোট। গণ অধিকার পরিষদের মোঃ শফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৩৯৫ ভোট।

এই আসনে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৯ ভোট বিজয়ী হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী জালাল উদ্দীন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোঃ শফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৯৭৫ ভোট।

কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৭ জন। আসনে সর্বমোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৯৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৫২.০৭ শতাংশ। এই হিসাবে প্রাপ্ত ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ হলো ২৯ হাজার ১৯৯। সে কারণে জামানতের টাকা হারিয়েছেন ৫ জন।

তাঁরা হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম আলমগীর পেয়েছেন ১ হাজার ৪৮৭ ভোট। গণতন্ত্রী পার্টির দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া পেয়েছেন ১৯১ ভোট। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ১১৮ ভোট। জাতীয় পার্টির মোঃ আবু বকর সিদ্দিক পেয়েছেন ১ হাজার ২৪৯ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ আলমগীর হোসাইন পেয়েছেন ১০ হাজার ৭৭৭ ভোট।

এই আসনে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী ড. মোহাম্মদ ওসমান ফারুক। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেহাদ খান পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৪৭৬ ভোট।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৮ জন। আসনে সর্বমোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৫। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৫০.২০ শতাংশ। এই হিসাবে প্রাপ্ত ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ হলো ২৫ হাজার ৬২৫। সে কারণে জামানতের টাকা হারিয়েছেন ৬ জন।

তাঁরা হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী রেহা কবির পেয়েছেন ২ হাজার ৯৭২ ভোট। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খায়রুল ইসলাম ঠাকুর পেয়েছেন ৮৭৯ ভোট। ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের নুরুল ইসলাম পেয়েছেন ৫১৬ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিল্লাল আহমেদ মজুমদার ২ হাজার ৪৮৭ ভোট। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মোঃ জয়নাল আবদিন পেয়েছেন ১০৫ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ শাহীন রেজা চৌধুরী পেয়েছেন ২ হাজার ৫৩৭ ভোট।

এই আসনে ১ লাখ ৩২ হাজার ৪৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী ফজলুর রহমান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোঃ রুকন রেজা শেখ পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৮২৯ ভোট।

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৮ জন। আসনে সর্বমোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ১৭০। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৫৯.৭৩ শতাংশ। এই হিসাবে প্রাপ্ত ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ হলো ২৬ হাজার ৩৯৬। সে কারণে জামানতের টাকা হারিয়েছেন ৫ জন।

তাঁরা হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী এ এইচ এম কাইয়ুম (হাসনাত কাইয়ুম) ১ হাজার ৮৯৭ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ দেলাওয়ার হোসাইন পেয়েছেন ২ হাজার ৬৮৮ ভোট। বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্ট মোঃ অলিউল্লাহ পেয়েছেন ১ হাজার ৩১৩ ভোট। জাতীয় পার্টির মোঃ মাহবুবুল আলম পেয়েছেন ২৯৫ ভোট। বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মোঃ সাজজাদ হোসেন পেয়েছেন ১৩৫ ভোট।

এই আসনে ৭৯ হাজার ৬০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৫০ ভোট।

কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৯ জন। আসনে সর্বমোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৫৪৯। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৫৭. ০৩ শতাংশ। এই হিসাবে প্রাপ্ত ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ হলো ৩০ হাজার ৫৬৮। সে কারণে জামানতের টাকা হারিয়েছেন ৭ জন।

তাঁরা হলেন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির ডা. মোহাম্মদ হাবিল মিয়া পেয়েছেন ৩১২ ভোট। ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের নাইমুল হাসান পেয়েছেন ৬৩০ ভোট। জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আয়ূব হোসেন পেয়েছেন ৮০৬ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ মূছা খান পেয়েছেন ২ হাজার ৪১১ ভোট। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মোঃ নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ১৮৫ ভোট। বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্টের মোঃ রুবেল হোসেন পেয়েছেন ২ হাজার ১৭২ ভোট। গণফোরামের শাফি উদ্দিন আহাম্মদ পেয়েছেন ২২০ ভোট।

এই আসনে ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৫৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী শরীফুল আলম। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আতাউল্লাহ আমিন পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৯৫ ভোট।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে জামানত বাবদ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। ওই সকল প্রার্থী নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় তাঁদের জামানতের টাকা আর ফেরত দেওয়া হবে না।