কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেছেন, বয়স ও শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে এটি হয়তো আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। তাই আমি ভোটারদের কাছে শেষবারের মতো সমর্থন চান।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ইটনা উপজেলা সদরের মিনি স্টেডিয়ামে নির্বাচনী প্রচারের শেষ জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে নিজ এলাকায় ফিরতে পারেনি। জনগণের দোয়ায় আবারও মানুষের মাঝে দাঁড়াতে পেরেছি।

দুপুর থেকেই ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা জনসভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। দলীয় কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতেও জনসভাটি এক পর্যায়ে বিশাল জনসমাবেশে রূপ নেয়।

ফজলুর রহমান বলেন, নির্বাচনে নানা ধরনের চক্রান্ত হতে পারে। কেউ যদি ভোট লুটের চেষ্টা করে, তাহলে জনগণকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। ভোটকেন্দ্রে ফলাফল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বশীলভাবে অবস্থান নেওয়ার কথাও বলেন।

বক্তব্যে তিনি জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিকভাবে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের সন্তান। জীবনের শেষ সময়ে আপনাদের সমর্থন চাই। আমি চাই হাওরাঞ্চলকে একটি উন্নত ও সম্মানজনক জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে।”

নিজের বয়স উল্লেখ করে ৭৮ বছর বয়সী এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ভবিষ্যতে আর হয়তো ভোট চাওয়ার সুযোগ পাবেন না। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান জানাতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সংসদে গেলে আমি ন্যায় ও সত্যের পক্ষে কথা বলব এবং এলাকার মানুষের অধিকার আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখব।

সভায় মুক্তিযুদ্ধ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি।

ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মনির উদ্দিনের সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় জেলা ও উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে এর আগে মিঠামইন ও অষ্টগ্রামেও নির্বাচনী জনসভা করেন ফজলুর রহমান।