কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে বাবার মরদেহ দেখে বারবার ভেঙে পড়েন হাজতি মিলন মিয়া (৪৫)। রাজনৈতিক মামলায় আটক থাকায় বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিলেন তিনি। তবে সেই আবেদন নামঞ্জুর হলে শেষ পর্যন্ত বাবার মরদেহই আনা হয় কারাগারে।

আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে এ ঘটনা ঘটে। এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন স্বজন ও উপস্থিত ব্যক্তিরা।

মিলন মিয়া কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবা ফুল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবার ও আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৪ ডিসেম্বর মিলন মিয়াকে আটক করে পুলিশ। পরে ১৬ ডিসেম্বর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি একটি মামলায় তিনি জামিন পেলেও নতুন আরেকটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাবার জানাজায় অংশ নিতে গতকাল মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। তবে আবেদন নামঞ্জুর করে মরদেহ কারাগারে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, তিনি আওয়ামী লীগের কোন পদ-পদবীতে ছিলেন না।

মিলন মিয়ার চাচা মতিউর রহমান বলেন, “কারাগারের ভেতরে বাবার মরদেহ দেখে মিলন বারবার মরদেহের ওপর পড়ে যাচ্ছিল। প্যারোলে মুক্তির জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। ব্যর্থ হয়ে শেষে বাবার মরদেহই কারাগারে আনতে হয়েছে। জীবনে এমন ঘটনা আর দেখিনি।”

স্বজনরা জানান, আজ সকাল ১০টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স জেলা কারাগারে পৌঁছায়। মিলনের এক চাচাকে কারাগারের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও অন্য স্বজনরা পান সাধারণ সাক্ষাতের সুযোগ।

মিলনের চাচাতো ভাই সালাম মিয়া বলেন, “৬০ কিলোমিটার দূর থেকে মরদেহ কারাগারে আনতে হয়েছে। এই সময় দাফন-কাফনে থাকার কথা ছিল, কিন্তু আমাদের ছুটতে হচ্ছে আদালত আর কারাগারে।”

আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল মোমেন ভূইয়া তুহিন বলেন, মিলন মিয়া কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও নেই। তিনি কোনো রাজনৈতিক পদে নেই এবং কোনো মামলায় নামীয় আসামিও নন। সন্দেহের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একটি মামলায় জামিন পেলেও পরে আবার নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার রীতেশ চাকমা বলেন, “জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারের গেটে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে কথা বলতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ এরশাদুল আহমেদকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।