বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী ড. এম ওসমান ফারুক বলেছেন, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের উন্নয়ন, ব্যক্তিগত আয় নয়। তিনি মনে করেন, রাজনীতি কখনোই রোজগারের মাধ্যম হতে পারে না এবং যারা তাঁর সঙ্গে রাজনীতি করবেন, তাদেরও এই মানসিকতা নিয়েই কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় করিমগঞ্জ উপজেলার নানশ্রী মুদির বাজারে এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ওসমান ফারুক বলেন, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে একটি প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থেই এই পথ অনুসরণ করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। গণতন্ত্রের পথে ব্যর্থ হলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন এবং দেশের পরিবর্তনে তাঁর আন্তরিক চেষ্টা রয়েছে। তবে সরকারের একক প্রচেষ্টায় পরিবর্তন সম্ভব নয়—জনগণের সক্রিয় সহযোগিতাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, দারিদ্র্য হ্রাস এবং সার্বিক উন্নয়নে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

জুলাই সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ড. ওসমান ফারুক বলেন, এ বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং সে বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে মন্তব্য করার অবস্থানে তিনি নেই।

দিনভর নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত তিনি করিমগঞ্জ ও তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নেন। নানশ্রী সরকারবাড়ি মোড়, দক্ষিণ নানশ্রী কদমতলী বাজার, কান্দাইল, মথুরাপাড়া ও বালিয়াবাড়ি বাজারসহ একাধিক স্থানে তিনি ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান। এ সময় তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম শিহাব উদ্দিন সরকারের কবর জিয়ারতও করেন।

নানশ্রী মুদির বাজারের পথসভায় বিপুল সংখ্যক নারী নেতাকর্মীর উপস্থিতি উল্লেখ করে ড. ওসমান ফারুক বলেন, দেশের উন্নয়নে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। পুরুষের পাশাপাশি নারীরা এগিয়ে না এলে জাতির অগ্রগতি সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভোটকে ঘিরে মানুষের মধ্যে উৎসবমুখরতা রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ কীভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে ড. ওসমান ফারুক বলেন, তাঁর পিতা ড. ওসমান গনি সবসময় দেশসেবায় জীবনের শেষ সময় ব্যয় করার কথা বলতেন। বিশ্বব্যাংকে চাকরি করার পরও তিনি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপিতে যোগ দেন এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিএনপির রাজনীতি জনমানুষের কল্যাণে নিবেদিত দাবি করে তিনি বলেন, আনুগত্য নয়—যোগ্যতা ও অবদানের ভিত্তিতেই জনগণের সমর্থন প্রত্যাশা করেন তিনি।

পথসভা ও গণসংযোগে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লাসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।