নির্বাচন কমিশনে আপিলের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে আবারও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেলেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা আন্দোলন–বাংলাদেশের আহ্বায়ক একেএম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন কমিশনে শুনানি শেষে তার আপিল গ্রহণ করা হয় এবং মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে একেএম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন তালিকায় কয়েকজন ভোটারের স্বাক্ষরে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল। পরে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে কমিশন তার পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয়।
তিনি বলেন, “সামান্য ত্রুটির বিষয়টি চাইলে স্থানীয়ভাবেই সমাধান করা যেত। ঢাকায় এসে আপিল করতে হওয়াটা অযথা ভোগান্তি হয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত ৪ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮ জনের মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে একেএম আলমগীরসহ চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।
বাতিল হওয়া অন্য প্রার্থীরা ছিলেন—জাতীয় পার্টির একাংশের নেতা মুজিবুল হক চুন্নু, গণতন্ত্রী পার্টির প্রার্থী দিলোয়ার হোসাইন ভূঁইয়া এবং স্বতন্ত্র (বিএনপি বিদ্রোহী) প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে মুজিবুল হক চুন্নু ছাড়া বাকি সবাই তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান।
এই আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। চারজনের মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন পুনর্বহাল হওয়ায় বর্তমানে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ রয়েছে।
বাকি বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—বিএনপির মনোনীত সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক, জামায়াতের ডা. জেহাদ খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আলমগীর হোসাইন তালুকদার, জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) মনোনীত আবু বকর সিদ্দিক, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম এবং খেলাফত মজলিসের আতাউর রহমান শাহান।
স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএম আলমগীর পেশায় মালয়েশিয়া প্রবাসী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আন্দোলন–বাংলাদেশ’-এর মাধ্যমে এলাকার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করে আসছেন। এই কার্যক্রমের কারণে স্থানীয়ভাবে তার একটি পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।