কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর বিশিষ্ট পল্লিচিকিৎসক ও সমাজসেবক অমূল্য চন্দ্র বণিকের ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর)। স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জীবনের স্বল্প পরিসরে তিনি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন।

অমূল্য চন্দ্র বণিক ১৯৩৭ সালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বণিকপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৩ সালে কটিয়াদী থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর ১৯৫৭ সালে ঢাকা মেডিক্যাল স্কুল থেকে কম্পাউন্ডার সনদ অর্জন করেন। এর মধ্য দিয়ে তাঁর চিকিৎসাসেবার কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের অধীনে ‘বি’ গ্রেড ফার্মাসিস্ট সনদও অর্জন করেন।

তৎকালীন সময়ে চিকিৎসাসেবায় নিজ হাতে ওষুধের মিশ্রণ বা ‘মিকচার’ তৈরি করা ছিল গুরুত্বপূর্ণ কাজ। নিজের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও বিবেচনাবোধ কাজে লাগিয়ে তিনি রোগীদের জন্য ওষুধ প্রস্তুত করতেন। বিশেষ করে শিশুদের চিকিৎসায় তাঁর আগ্রহ ছিল বেশি।

রোগীর প্রয়োজনে দিন-রাত ছুটে যেতেন তিনি। কখনো খাবার রেখে, কখনো গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠে অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। অর্থের অভাবে যাতে কেউ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে তিনি ছিলেন আন্তরিক। অসহায় ও দরিদ্র অনেক রোগীকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতেন। তাঁর এই মানবিক আচরণ ও সেবার মানসিকতার কারণে স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের ত্রিপুরায় অক্সফাম পরিচালিত আহত মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থীদের চিকিৎসাকেন্দ্রে কম্পাউন্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অমূল্য চন্দ্র বণিক। মুক্তিযুদ্ধের সেই সংকটময় সময়ে আহত মুক্তিযোদ্ধা ও আশ্রয় নেওয়া মানুষের সেবায় তাঁর এই ভূমিকা ছিল মানবিক দায়িত্ববোধের পরিচায়ক।

১৯৯১ সালে মাত্র ৫৪ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে মৃত্যুর পরও তাঁর সেবামূলক কর্মকাণ্ড ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার স্মৃতি স্থানীয় মানুষের মধ্যে অমলিন রয়েছে।

তাঁর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ জিউর মন্দিরে পারিবারিকভাবে মাঙ্গলিক ক্রিয়াদির আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও সব শুভানুধ্যায়ীর কাছে প্রয়াতের আত্মার মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।