নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার জন্য সচিবালয়ে স্থাপিত ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার (মোবাইল ল্যাবরেটরি ভ্যান) পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রবেশের পূর্বে তিনি এই ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারটি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন।

​সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নিচে রাখা ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারটির ভেতরে প্রবেশ করে তিনি খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ ও তা পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরীক্ষাগারটির প্রযুক্তিগত সুবিধা ও সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন।

​পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, সারা দেশের ৬৪টি জেলায় ভেজালবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা ও তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। এই তদারকির অংশ হিসেবেই আধুনিক ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে দ্রুত খাদ্য পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে দেশের আটটি মহানগর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে নমুনা পরীক্ষা ও তদারকি চালানো হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সবকটি জেলায় এই কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।

​এই ভেজালবিরোধী ও তদারকি কার্যক্রম মূলত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পৃথকভাবে সম্পাদিত হয়। এ ছাড়া চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় আরও ৭২টি ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার ভ্যান সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

​কেবল খাদ্য পরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতেও এসব ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভ্যানগুলোর বাইরের দিকে স্থাপিত মনিটরের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক বিভিন্ন সচেতনতামূলক ভিডিও নিয়মিত প্রচার করা হয়।

​পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও জনপ্রশাসনসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।