সৌদি আরবে অবস্থিত মুসলমানদের পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার ওপর কোনো ধরনের হুমকি এলে বাংলাদেশ বসে থাকবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, মক্কা-মদিনা বিশ্ব মুসলিমের ঐক্যের স্থান। এটি কেবল সাধারণ কোনো কূটনীতির বিষয় নয়, বরং এর সঙ্গে আমাদের আবেগ জড়িত।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) প্রাঙ্গণে এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মক্কা ও মদিনার ওপর যদি কোনো হুমকি আসে, আর বাংলাদেশ যেহেতু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, তাই আমরা বসে থাকবো না। অবশ্যই আমরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবো।”
এর আগে ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: পরিবর্তনশীল বিশ্বে পথপরিক্রমা’ শীর্ষক বিআইআইএসএস-এর সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সেখানে তিনি সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে দেশের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক বিস্তারিত তুলে ধরেন। বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
‘মক্কা প্যাক্ট’ ও সেনা পাঠানোর বিতর্ক
কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত ‘মক্কা প্যাক্ট’-এ বাংলাদেশ যোগ দিচ্ছে কি না এবং সৌদি আরবের প্রয়োজনে সেনা পাঠানো হবে কি না—এমন প্রশ্নে শামা ওবায়েদ বলেন, “বাংলাদেশ এখনো মক্কা জোটে যোগ দেয়নি। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যোগ দিলেই কেবল সৈন্য পাঠানোর প্রশ্ন আসবে। যেহেতু বাংলাদেশ এখনো যোগ দেয়নি, তাই এই মুহূর্তে সেনা পাঠানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না।”
তবে সৌদিতে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করেছি। আমরা চাই অবিলম্বে এমন হামলা বন্ধ হোক। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকে একটি চিঠিও দেওয়া হয়েছে। আমরা সৌদি সরকার ও সাধারণ মানুষের পাশে আছি।”
জ্বালানি সরবরাহে সংকট দেখছে না সরকার
সৌদির মূল তেল শোধনাগারগুলোতে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না—জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ এই মুহূর্তে কোনো সংকট দেখছে না।
তিনি বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করছি। আমাদের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন। জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে যে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তাতে আশা করছি কোনো সমস্যা হবে না।” তবে যুদ্ধের প্রভাব সার্বিকভাবে পুরো বিশ্বেই পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রবাসীদের হতাহতের ঘটনায় সমবেদনা
গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই জন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানান শামা ওবায়েদ।
তিনি জানান, হামলায় আহত ২৪ জনেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের কয়েকজন নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) আছেন। সংঘাতের দ্রুত অবসান চেয়ে তিনি বলেন, “আমরা আশা করি শিগগিরই এই পরিস্থিতির অবসান ঘটবে। এতে সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে এবং একের পর এক পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।”