কোনো প্রকার শর্ত না ভাঙার পরও কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় পূর্বে নিবন্ধিত ৬০০টি ইজিবাইকের লাইসেন্স বাতিলের আশঙ্কায় চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। হুট করে পুরানো লাইসেন্স বাতিল না করে পূর্বের নিবন্ধন নবায়নের দাবি জানিয়েছে ‘কিশোরগঞ্জ পৌর ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক মালিক সমবায় সমিতি’।

রোববার (১১ অক্টোবর) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর কাছে এ দাবি তুলে ধরেন তাঁরা।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী (কিশোরগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত) কিশোরগঞ্জ পৌর ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক মালিক সমবায় সমিতির মালিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের আবেদন পেয়েছি। আগামীবার এসে আপনাদের সাথে আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্ত আপনাদের জানিয়ে দেব।

সমিতির নেতারা জানান, ২০১৬ সালে পৌরসভার অধীনে ১ হাজার টাকা ফি প্রদান করে ৬০০টি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের প্রাতিষ্ঠানিক নিবন্ধন অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালে ৫ হাজার টাকা ফি দিয়ে চালকরা সেসব লাইসেন্স নবায়ন করেন। তবে গত ২৭ সেপ্টেম্বর পৌর কর্তৃপক্ষ নতুন করে নোটিশ না দিয়ে ১ হাজার টাকা ফি-তে নতুন ফর্ম বিক্রি শুরু করে, যা ১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার বিক্রি হয়েছে। অভিযোগ উঠে এসেছে, পূর্বের নিবন্ধিত ইজিবাইকগুলোর অনুমোদন বাতিল করে নতুনভাবে বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

সমিতির নেতারা আরও জানান, এ খাতের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা জড়িত। পূর্বের কোন শর্ত ভঙ্গ বা কর অনাদায়ী না থাকা সত্ত্বেও পুরাতন লাইসেন্স বাতিল করা হলে শত শত চালক ও মালিক পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়বেন। এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছেও এ বিষয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।

কিশোরগঞ্জ পৌর ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি কামাল মিয়া বলেন, আমরা কোনো শর্ত ভাঙিনি। সরকারি চূড়ান্ত নীতিমালা আসার আগেই এভাবে পুরাতন নিবন্ধন বাতিল করে আয়ের পথ বন্ধ করে দিলে আমরা কোথায় যাব? চালকদের রুটি-রুজির কথা চিন্তা করে আমরা দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশা করছি।