কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে দিনে-দুপুরে এক অটোরিকশাচালককে মারধর করে সড়কের পাশে ফেলে রেখে তার অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া চালক রফিকুল ইসলামকে প্রথমে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের নোয়াগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে ।
আহত রফিকুল ইসলাম রামদী ইউনিয়নের পশ্চিম তারাকান্দি গ্রামের মৃত মো. শহিদুল্লাহর ছেলে। এক মেয়ে ও দুই ছেলের বাবা তিনি। অটোরিকশা চালিয়েই সংসারের খরচ চালান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিজের অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন রফিকুল। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর পরিবারের কাছে খবর আসে, কে বা কারা তাকে মারধর করে নোয়াগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কের পাশে ফেলে গেছে। খবর পেয়ে স্বজনরা সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
পরিবারের দাবি, রফিকুলকে মারধর করে অচেতন করার পর তার অটোরিকশাটি নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তারা জানায়, মাত্র ২৮ দিন আগে ব্র্যাক সমিতি থেকে আড়াই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে অটোরিকশাটি কিনেছিলেন তিনি।
রফিকুলের ছোট বোন মোমেনা বলেন, ভাই প্রতিদিন অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালান। মাত্র ২৮ দিন আগে আড়াই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে অটোরিকশাটি কিনেছিলেন। আজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর খবর পাই, ভাইকে কে বা কারা মারধর করে সড়কের পাশে ফেলে রেখেছে। পরে জানতে পারি, একটি মাইক্রোবাসে করে কয়েকজন তাকে মারধর করে সড়কের পাশে ফেলে যায়। এর আগেই তারা ভাইয়ের অটোরিকশাটি নিয়ে গেছে।
কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. আল ইমরান বাবু বলেন, রফিকুলের ঠোঁট ও মুখমণ্ডলে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাসপাতালে আনার সময় তার রক্তচাপ অনেক কম ছিল। প্রাথমিকভাবে জিসিএস (Glasgow Coma Scale) পরীক্ষা করে স্কোরও অনেক কম পাওয়া যায়। তাকে কোনো চেতনানাশক কিছু খাইয়ে থাকতে পারে বলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভাগলপুরে রেফার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেননি এবং এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগও আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।