কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় সরকারি ভর্তুকির সার কালোবাজারে পাচারের সময় ১১১ বস্তা ডিএপি সার ও দুটি ট্রলি জব্দ করেছে পুলিশ। ধাওয়া করে দুজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা গেলেও ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দিয়েছেন পাচারচক্রের মূল হোতা স্থানীয় বৈরাটি ইউনিয়ন যুবলীগের দুই শীর্ষ নেতা।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে মিঠামইন উপজেলার কাঠখাল ইউনিয়নের কাকুয়া গ্রামের পাকা রাস্তা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। উদ্ধার করা সারের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৫০ টাকা।

ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মিঠামইনের কাঠখাল গ্রামের মো. জহির (২৬) ও রফিক মিয়া (২৭)।

মামলায় পলাতক মূল অভিযুক্ত দুজন হলেন বৈরাটি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রতন (৩৫) ও একই কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হক লিটন (৩৫)। এতে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈরাটি ইউনিয়নের সারের গোডাউন থেকে ট্রলি ভর্তি সরকারি ভর্তুকির সার মজুত করে চড়া দামে কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছে। এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাকুরিয়া এলাকায় ওত পাতে পুলিশ। সার বোঝাই দুটি ট্রলি নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে চম্পট দেন যুবলীগ নেতা রতন ও লিটনসহ ৪-৫ জন। তবে ধাওয়া করে ট্রলিচালক ও সহযোগী জহির ও রফিককে ধরে ফেলে পুলিশ। পরে তাদের ট্রলি থেকে ১১১ বস্তা সার জব্দ করা হয়।

আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, তারা যুবলীগ নেতা রতন ও লিটন প্রত্যক্ষ নির্দেশে সরকারি সার অবৈধভাবে মজুত করে চড়া দামে বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন।

​এ ঘটনায় কাঠখাল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) আল মোমেন বাদী হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মিঠামইন থানায় একটি মামলা করেছেন।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চোরাচালানের মূল হোতা যুবলীগ নেতাসহ পলাতকদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলছে।