কিশোরগঞ্জে চাকরি ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ নিয়ে দিনব্যাপী মেলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিওয়াইডি ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ মেলায় চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে সিভি সংগ্রহের পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়। মেলায় ২৫টি স্টলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তা অংশ নেন।
‘চাকরি ও যুব উদ্যোক্তা মেলা-২০২৬’ নামের এ মেলার আয়োজন করে কিশোরগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। সেভ দ্য চিলড্রেন, ইউসেফ বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট অংশীদারেরা এতে সহযোগিতা করে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা মেলায় চাকরিপ্রত্যাশী যুবক-যুবতী ও তরুণ উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
মেলার উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন। ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধনের পর তিনি বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেভ দ্য চিলড্রেনের সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ ওবায়দুল হক, ইউসেফ বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ও ইনোভেশন বিভাগের উপপরিচালক ইঞ্জিনিয়ার জয় প্রকাশ বড়ুয়া এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম শামীম।
মেলায় নিজের তৈরি পাঞ্জাবি নিয়ে অংশ নেন উদ্যোক্তা সুমন। তিনি বলেন, করোনার সময় বেকার হয়ে পড়েছিলেন। পরিবারের আর্থিক সংকটের মধ্যে ছোট বোনের কাছ থেকে তিনটি পাঞ্জাবি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। একপর্যায়ে এক দিনে ১০০টি পাঞ্জাবি বিক্রি করেন। এরপর ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন। এখন অনলাইন ও অফলাইনে পাঞ্জাবি বিক্রি করে পরিবার নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন বলে জানান তিনি।
নারী উদ্যোক্তা সুমি বলেন, ইউসেফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় তাঁদের সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারী-পুরুষদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এবারের মেলায় তাঁদের সংগঠনের মাধ্যমে ২০ জন বেকার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ নেওয়া উদ্যোক্তারা নিজেদের তৈরি পণ্য নিয়ে মেলায় অংশ নেন।
মেলায় নিজের তৈরি পণ্য নিয়ে অংশ নেন বাক্প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তা গোলসান আরাও। তাঁর স্টলেও বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়।
আয়োজকেরা বলেন, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা করাই মেলার উদ্দেশ্য।