সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পাশাপাশি পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়নুল আলম তালুকদার। তিনি বলেছেন, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি রাখা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
‘সুস্বাস্থ্যের জন্য ফলিত পুষ্টি’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়। প্রশিক্ষণ চলবে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান) ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণে সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও), শিক্ষক-শিক্ষিকা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা, তথ্য আপা, সাংবাদিক, ইমাম-পুরোহিত ও এনজিওকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৩০ জন অংশ নেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জয়নুল আলম তালুকদার বলেন, ‘সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বেশি করে শাকসবজি রাখা প্রয়োজন। শুধু সাদা ফুলকপি নয়, বর্তমানে বাজারে সবুজ, হলুদ, কমলা ও বেগুনি রঙের ফুলকপিও পাওয়া যাচ্ছে। এসব সবজিতে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কমলা ও হলুদ রঙের ফুলকপিতে বিটা-ক্যারোটিনসহ ক্যারোটিনয়েড থাকে, যা শরীরে ভিটামিন এ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে বেগুনি ফুলকপির রঙের জন্য দায়ী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অ্যান্থোসায়ানিন। তাই খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি রাখা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।’
প্রশিক্ষণে উপস্থিত ছিলেন বারটানের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, সহকারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সোহাগ মিয়া এবং কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি আশরাফুল ইসলামসহ প্রমুখ।
প্রশিক্ষণে সুষম খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন জীবনে পুষ্টির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন প্রশিক্ষকেরা।
আয়োজকেরা জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের পুষ্টিবিষয়ক জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়িয়ে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র ও সমাজে পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।