টানা কয়েক দিনের অতিবৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামসহ বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের সোনালি স্বপ্ন এখন পানির নিচে। ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের চোখে এখন আনন্দ নেই, আছে কেবল ঋণের দুশ্চিন্তা। জলাবদ্ধতার কারণে ধান কাটার উৎপাদন খরচ এতটাই আকাশচুম্বী হয়েছে যে, এক মণ ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরিও পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
মাঠ পর্যায়ের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রতি একরে গড় ফলন হয়েছে ৭০ মণ। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ায় সেই ধান ঘরে তোলা এখন কৃষকের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটতে শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করায় একর প্রতি কাটার মজুরি ৫০০-৬০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায়।
মাড়াই, ঝাড়াই ও পরিবহন খাতে যেখানে আগে ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হতো, এখন তেলের দাম বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতার কারণে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০-২৫ হাজার টাকায়। অর্থাৎ, মাত্র দেড় সপ্তাহের ব্যবধানে একর প্রতি বাড়তি খরচ বেড়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা।
কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতি মণে চাষাবাদ (বীজ, সার, সেচ ও জমি চাষ) বাবদ উৎপাদন খরচ ১,০০০ টাকা। এর সাথে জলাবদ্ধতার কারণে ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও পরিবহন খাতে বাড়তি ৩৫৪ টাকা যোগ হয়ে প্রতি মণে মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে ১,৩৫৪ টাকা। বিপরীতে বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। সেই হিসেবে প্রতি মণে কৃষকের লোকসান হচ্ছে ৭৫৪ টাকা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাদিকুর রহমান বলেন, ধান শুকিয়ে সরকারের কাছে বিক্রি করার পরামর্শ থাকবে।