গত কয়েকদিনের টানা অতিবৃষ্টির জন্য সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কিশোরগঞ্জ জেলার বোরো ধানের অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দীর্ঘ সময় পানির নিচে তলিয়ে থাকায় জেলার ১১ হাজার ১৭৪ হেক্টর জমির ধান পুরোপুরি পচে যাবে। এসব জমি থেকে ধান কাটার আর কোনো উপায় নেই। ফলে চলতি মৌসুমে জেলায় ৫২ হাজার ৮৫৩ মেট্রিক টন চালের উৎপাদন ঘাটতি দেখা দিবে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৬০ কোটি টাকা।

​মাঠ পর্যায়ের চিত্র বলছে, পচন ধরায় এসব ধান গাছ থেকে ধান সংগ্রহের আর কোনো সুযোগ নেই। এমনকি পচে যাওয়ায় এসব ধানগাছ খড় হিসেবেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে কাস্তে হাতে মাঠে নামার বদলে দুশ্চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার ৪৯ হাজার ৭১৫ জন কৃষক।

​কৃষকেরা জানিয়েছেন, ফলন ভালো হলেও শেষ মুহূর্তে অতিবৃষ্টি সব কেড়ে নিয়েছে। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে আবাদ করেছিলেন, এখন ফসল ঘরে তুলতে না পারায় ঋণের বোঝা কীভাবে শোধ করবেন তা নিয়ে তারা শঙ্কিত।

​জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাদিকুর রহমান বলেন,জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাওয়া ধানগুলো পচে যাবে। এগুলো পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং গেছে। এগুলো আর কাটার যোগ্য নেই। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করছি। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সহায়তা তাদের দেয়া হবে।