কিশোরগঞ্জে অপরাধের অন্ধকার জগত ছেড়ে আলোর পথে ফেরার অঙ্গীকার করেছেন একদল মাদক কারবারি। রোববার (৩ মে) বিকেলে শহরের বত্রিশ মনিপুরঘাট এলাকায় জেলা পুলিশ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশীয় অস্ত্র জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন তাঁরা।

পুলিশ জানায়, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নারী মাদক কারবারি রয়েছেন। জহির, রুজি, সুজন, নাদিম ও শাহ আলমসহ ৮ জন কারবারি আজ প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা ছাড়ার শপথ নেন। এসময় তাঁরা নিজেদের হেফাজতে থাকা রামদা, বল্লমসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

​আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রুজি নামে এক নারী তার বক্তব্যে বলেন, “আমি ও আমার স্বামী এই ব্যবসা ছেড়ে আলোর পথে ফিরে এসেছি। তবে আমার আপন বড় ভাই এখনো এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাকে এই পথ থেকে ফেরানোর জন্য আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চাইছি।”

​অন্যান্য ব্যবসায়ীরা তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, “এই পথে কোটি টাকা কামালেও রাতে শান্তিতে ঘুমানো সম্ভব ছিল না। এখন সব ছেড়ে পরিবার নিয়ে একটু শান্তিতে থাকতে চাই।” এসময় তারা তাদের নামে থাকা পূর্বের মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানান।

​অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, আপনাদের এই আত্মসমর্পণকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে এই ছেড়ে দেওয়া যেন সাময়িক না হয়। আপনাদের নামে যেসব মামলা রয়েছে, সেগুলো পুলিশ প্রশাসন আইনি প্রক্রিয়ায় দেখবে। পাশাপাশি আপনারা যাতে আবারও অভাবের তাড়নায় এই পথে ফিরে না যান, সেজন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় আপনাদের স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো: মাজহারুল ইসলাম। কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় এতে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) শরীফুল হক, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়াসহ যুবদল ও ছাত্রদলের জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

​পুলিশ জানায়, আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের বিষয়টি মানবিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবেচনা করা হবে। তবে মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।