কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে একটি বিয়ের আসরে নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক আয়োজনে প্রবাসফেরত এক যুবকের সঙ্গে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টা পর তাঁকে তালাক দিয়ে নিজের প্রেমিককে বিয়ে করেছেন এক কলেজছাত্রী। গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের গনেরগাঁও গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে গনেরগাঁও গ্রামের চুনতি পাড়া মহল্লার এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী পাকুন্দিয়া উপজেলার কলাদিয়া গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী হৃদয় মিয়ার বিয়ের দিন ধার্য ছিল। রাত ১১টার দিকে শতাধিক বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়িতে উপস্থিত হন বর। ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ের রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়।

​বিয়ের পর যখন বরযাত্রীদের আপ্যায়ন করা হচ্ছিল, ঠিক তখন মোটরসাইকেলে করে বিয়ে বাড়িতে হাজির হন মাসুদ (২৪) নামে এক যুবক। তিনি হোসেনপুর উপজেলার পানান গ্রামের বাসিন্দা। মাসুদ দাবি করেন, কনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ দুই বছরের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। প্রমাণ হিসেবে তিনি মোবাইলে থাকা কিছু ছবিও দেখান।

​উপস্থিত স্বজনরা শুরুতে মাসুদকে চলে যেতে বলেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হলে কনে জানান, তিনি মাসুদের সঙ্গেই সংসার করতে চান।

​বিষয়টি নিয়ে কনে ও বরের দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কনে তাঁর নববিবাহিত স্বামী হৃদয়কে তাৎক্ষণিকভাবে তালাক দেন। এরপর হৃদয় ও তাঁর পরিবার বিয়ের স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য উপঢৌকন নিয়ে সেখান থেকে ফিরে যান।
​একই আসরে রাত সাড়ে তিনটার দিকে ৪ লাখ টাকা দেনমোহরে প্রেমিক মাসুদের সঙ্গে ওই ছাত্রীর পুনরায় বিয়ে পড়ানো হয়। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে মাসুদ তাঁর নবপরিণীতা স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যান।

​এ বিষয়ে কনে জানান, পরিবারের চাপে পড়ে তিনি প্রবাসীকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছিলেন। তবে ভালোবাসা জয়ী হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

​আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল হান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে এবং কনে তাঁর পছন্দের মানুষের কাছেই ফিরে গেছেন। এই ঘটনাটি বর্তমানে পুরো এলাকায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।